জামায়াতে ইসলামীর কারণে ১১ দলীয় জোট ভাঙনের মুখে
নিজস্ব প্রতিবেদক :
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গঠিত ১১ দলীয় রাজনৈতিক জোট গভীর সংকটে পড়েছে। জোটের ভেতরে আসন বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েনের পর জামায়াতে ইসলামীর অনড় অবস্থানের কারণেই জোটটি কার্যত ভাঙনের পথে—এমনটাই জানিয়েছেন জোট সংশ্লিষ্ট একাধিক নেতা।
বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে ১৯০টি সংসদীয় আসনে প্রার্থী দেওয়ার দাবিতে অনড় থাকার কারণে জোটের অন্যান্য শরিক দলগুলোর সঙ্গে মতানৈক্য চরম আকার ধারণ করেছে। জোটের একাধিক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হলেও কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো যায়নি।
জোট সূত্র জানায়, সমপর্যায় ও মাঝারি শরিক দলগুলো শুরু থেকেই আসন বণ্টনে বাস্তবসম্মত ও সমঝোতামূলক প্রস্তাব দিয়ে এলেও জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সংখ্যাগতভাবে অতিরিক্ত আসনের দাবি করা হচ্ছে। এতে করে অন্যান্য দল নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও মাঠপর্যায়ের শক্তি নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জোটের এক শীর্ষ নেতা বলেন,
“একটি জোট টিকে থাকে পারস্পরিক ছাড় ও সমঝোতার ভিত্তিতে। কিন্তু একটি দল যদি একতরফাভাবে ১৯০ আসনের মতো দাবি তোলে, তাহলে জোটের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়াটাই স্বাভাবিক।”
এদিকে কয়েকটি শরিক দল ইতোমধ্যে বিকল্প রাজনৈতিক জোট বা এককভাবে নির্বাচনে যাওয়ার বিষয়টি ভেতরে ভেতরে বিবেচনা করছে বলে জানা গেছে। জোটের সাম্প্রতিক বৈঠকগুলোতে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জামায়াতে ইসলামীর এই কঠোর অবস্থান শুধু ১১ দলীয় জোটকেই নয়, বিরোধী রাজনৈতিক পরিসরকেও দুর্বল করে তুলতে পারে। তারা মনে করেন, শেষ মুহূর্তে সমঝোতা না হলে জোট ভেঙে যাওয়াটা সময়ের ব্যাপার মাত্র।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর দায়িত্বশীল কোনো নেতা প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি না হলেও দলটির ঘনিষ্ঠ সূত্র দাবি করেছে, “রাজনৈতিক শক্তি ও সাংগঠনিক বাস্তবতার নিরিখেই তারা আসন দাবি করছে।”
সব মিলিয়ে, আসন বণ্টনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই সংকট ১১ দলীয় জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়—শেষ পর্যন্ত সমঝোতার পথে হাঁটে নাকি জোট ভাঙনের ঘোষণাই আসে।